
জিজ্ঞাসা
বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি দাওয়াতি, শিক্ষামূলক, জনকল্যাণমূলক এবং গবেষণামূলক কার্যক্রম আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির সকল কার্যক্রমের তথ্য নিচে দেয়া হলো।
আপনার জিজ্ঞাসা
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ইসলামী শরীয়াতে বিবাহের কয়েকটি স্তর রয়েছে।
(ক) যে ব্যক্তি সহবাস ও খোরপোষদানে সামর্থ, তার পক্ষে বিবাহ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
(সুরা ফুরকান, ৪৭, তিরমিজী, মিশকাত-২/৪৪)
(খ) যার খোরপোষদানের সামর্থ নেই, তার পক্ষে বিবাহ করা মাকরূহ। তার পক্ষে রোজা রাখাই উচিত, কারণ রোজার উপবাস প্রবৃত্তিকে দমন করে।
(বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত-২৯৪৬)
(গ) যে সামর্থবান ব্যক্তির যৌনতাড়না সহ্যসীমা অতিক্রম করে যায় এবং দুর্ঘটনায় লিপ্ত হওয়ার আশংকা প্রবল হয়ে উঠে, তার পক্ষে বিবাহ করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
(সুরা নিসা-৩, বুখারী)
বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যথা- ১. ইজাব এবং কবুল অর্থাৎ প্রস্তাব ও সমর্থন। ২. দুইজন সাক্ষী উপস্থিত থাকা। ৩. ইজাব কবুল একই মজলিসে হওয়া। ৪. পাত্র-পাত্রি অথবা তাদের উকিল আকদের মজলিসে উপস্থিত থাকা।
(সুরা নিসা- ১৯, বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত-৩১২৬, তাবরানী, সহিহুল জামে’ হা/৭৫৫৮)
হাদিসে রয়েছে, ‘লা নিকাহা ইল্লা বিশুহুদিন’ সাক্ষী ব্যতীত বিবাহ হয় না। সুতরাং সাক্ষী রাখা ওয়াজিব। নতুবা বিবাহ শুদ্ধ হবে না।
(দারে কুতনী ও ইবনে হিব্বান)
(ক) সংখ্যার বিচারে দুইজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ এবং দুইজন মহিলা আবশ্যক।
(মাজাহেরে হক-৩/৭৫, বাদায়েউস সানায়ে-২/২৫২)
(খ) গুণাগুণের বিচারে তাদের মুসলিম, বালক, স্বাধীন, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া জরুরি।
(হেদায়া-২/৩০৬)
আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাক্ষী রেখে বিবাহ করার দ্বারা কোনো বিবাহ শুদ্ধ হয় না। আর নবীকে সাক্ষী রেখে বিবাহ করা একটি কুফরি কাজ। কারণ, তখন নবীকে হাজির নাজির বিশ্বাস করতে হয়। নতুবা কিভাবে নবীকে সাক্ষী রাখবে? কারণ; সাক্ষী হবার জন্য উপস্থিত থাকা ও উক্ত কথাটি শুনা জরুরি। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবার কথা যেমন শুনতে পান না, তেমনি সকল স্থানে উপস্থিতও নয়।
তাই, এ উদ্ভট শব্দে কোন বিবাহ তো শুদ্ধই হয় না; বরং এর দ্বারা মারাত্মক ধরণের গোনাহ সংঘটিত হয়। যা থেকে তওবা করা আবশ্যক।
বিবাহ সহিহ হওয়ার শর্ত হল, শরীয়াতের মুকাল্লাফ (যাদের ওপর শরীয়াতের বিধান আরোপিত হয়) এমন দুইজন স্বাধীন পুরুষ সাক্ষী বা একজন স্বাধীন পুরুষ ও দুইজন স্বাধীন মহিলা সাক্ষী হতে হবে, যারা প্রস্তাবনা ও কবুল বলার সময় উভয় বক্তব্য স্বকর্ণে উপস্থিত থেকে শুনতে পায়।
[আদ দুররুল মুখতার- ৩/৯, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২৬৮, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৪০৭৫, মাজমাউল আনহুর- ১/৩৮৬, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া-৪/৩৬,৩৯, ফাতাওয়ায়ে শামী- ৪/৮৭]
(ক) সাবালক-সাবালিকার বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে, তবে সাবালিকার বিবাহ যদি অসম শ্রেণিতে হয়ে থাকে, তবে অভিভাবক কাজির মাধ্যমে সে বিবাহ ভেঙে দেওয়ার অধিকার রাখে।
(সুরা বাকারা-২৪৩, সুরা আহযাব-৫০, মুসলিম, মিশকাত-২৯৯৩)
(খ) অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে অভিভাকের মাধ্যমেই বিবাহ হতে হবে।
(আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
সরাসরি মোবাইল বা ভিডিওর মাধ্যমে বিবাহ শুদ্ধ হবে না। তবে মুফতিয়ানে কিরাম এর একটি সুন্দর সূরত বের করেছেন। ফোনের মাধ্যমে উভয় পক্ষের উকিল বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা যেতে পারে। তখন ঐ প্রতিনিধি যদি স্ব শরীরে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাক্ষীর সামনে বিবাহ কাজ সম্পাদন করে, তাহলে তা সহিহ হয়ে যাবে।
(জাদিদ ফিকহী মাসায়িল-১/১৪৮, খুলাসাতুল ফাতওয়া-২/৪৮, ফাতাওয়া দারুল উলুম)
(ক) বিবাহে কনের অনুমতি নিতে হবে, তা ব্যতীত বিবাহ শুদ্ধ হবে না।
(খ) অভিভাবক কনের নিকট পাত্রের নাম পরিচয় তুলে ধরে বলবে, আমি তোমাকে তার সাথে বিবাহ দিচ্ছি। তুমি কি রাজী আছ?
(গ) মেয়ে কুমারী হলে তার সম্মতিসূচক ভাব প্রকাশ অনুমতি বলে গণ্য হবে।
(ঘ) বিধবা কিংবা তালাকপ্রাপ্তা হলে মুখ দিয়ে স্পষ্ট কথা বলতে হবে।
(ঙ) অনুমতি নেওয়ার সময় সাক্ষীর প্রয়োজন নেই।
(সুরা বাকারা-২৩২, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪১৯; আলবাহরুর রায়েক ৩/১১০; ফাতহুল কাদির ৩/১৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৮৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৮)
(ক) শরীয়াতের দৃষ্টিকোণ থেকে নির্দিষ্ট কোন বয়স নেই। শুধু উপযুক্ত বয়সেই বিবাহ করার কথা বলা হয়েছে এবং বিবাহের সামর্থ ও সকল উপকরণ থাকলে বিনা কারণে দেরি করতে নিষেধ করা হয়েছে।
(সুরা নুর-৩২, মিশকাত-২৬১, ২৭১)
(খ) চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে মেয়েদের বেলায় ১৫ থেকে ২০, আর ছেলেদের বেলায় ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সকে উত্তম সময় বলে নির্ধারিত করা হয়েছে। (মুসলিম নারী ও পরিবার)
(ক) মহর স্ত্রীর অবশ্যপ্রাপ্য একটি অধিকার। তা পরিশোধ করা স্বামীর জন্য ওয়াজিব। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘নারীদের মহর আন্তরিকতার সাথে প্রদান কর।’
(সুরা নিসা-৪/২৪)
তাছাড়া মহর একটি ঋণ বিশেষ। হাদিস শরিফে আছে, যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ করার বাসনা না রাখে, সে কিয়ামতের দিন চোর হয়ে উঠবে।
(ইসলাহে ইনকিলাব, থানবী র.)
সর্বনিম্ন মহরের পরিমাণ ১০ দিরহাম অর্থাৎ প্রায় পৌনে তিন তোলা পরিমাণ রূপার সমপরিমাণ। যার বর্তমান পরিমাণ হল ৩০০ গ্রাম ৬১৮মিলি গ্রাম রূপা বা এর সমমূল্য।
(জাদীদ ফিকহি মাসআলা-১/২৯৩)
যুগের পরিবর্তনে মানুষের আর্থিক অবস্থা, রুচি ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়েই থাকে। এজন্য মহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ কুরআন সুন্নায় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। বরপক্ষ ও কনেপক্ষকে বরের সামর্থ এবং কনের মর্যাদা হিসেবে নির্ধারণ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তবে খুব বেশি পরিমাণ মহর নির্ধারন করা উচিৎ নয়।
(সুরা নিসা-২৪, সুরা আহযাব-৫০, দারে কুতনী)
(ক) মেয়ের পরিবারের অপর মহিলাদের সমান মহর ধার্য করা হলে তাকে মহরে মিছিল বা খান্দানী মহর বলে।
(খ) মহরে মিছিল নিরুপণের পদ্ধতি হল, তার বাপ দাদার বংশের মেয়েদের যেমন- বোন, ফুফু, ভাতিজী, চাচাতো বোন প্রমুখের মহর দেখতে হবে এবং যুগের পরিবর্তনে স্থানের পরিবর্তনে রূপ, গুণ, বয়স বিবেচনায় মহরের যে তারতম্য হয়ে থাকে, তাও বিবেচনায় আনতে হবে।
(ফাতওয়ায়ে শামী, ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কন্যা ফাতিমার জন্য যে মহর ধার্য করেছিলেন তাকে মহরে ফাতেমী বলে।
আর মহরে ফাতেমী শুধুমাত্র সামর্থবান স্বামীর জন্য সুন্নাত। সকলের জন্য নয়। কেউ এরও সামর্থ্যবান না হলে, সে সামর্থ্য অনুযায়ী মহর দিবে।
মহরে ফাতেমীর পরিমাণ : মহরে ফাতেমী পাঁচশত দিরহাম, যা বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ১৩১.২৫৩ তোলা (প্রায় ১৩১ ভরি ৩ মাশা) বা ১৪৮৭.৫ গ্রাম রূপার সমান। সুতরাং বর্তমান রূপার মূল্য (আনুমানিক) ভরি প্রতি ১০০০ টাকা হলে, মহরে ফাতেমী আসবে ১,৩১,২৫৪ টাকা (রুপার মূল্য পরিবর্তন হলে হিসাবও পরিবর্তন হবে)।
[সহিহ মুসলিম-হাদিস নং-৩৫৫৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদিস নং ১৬৬৩০, সুনানে আবু দাউদ-১/২৯৪, ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ-৮/২০১, জাওয়াহেরুল ফিক্বহ-৩/৪১০, আপকে মাসায়েল -৬/২৮৬]
একনজরে বামুক
-
প্রতিষ্ঠাতা : মাওলানা সৈয়দ এসহাক রহ.
-
বর্তমান আমীর : মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম
-
সেক্রেটারি জেনারেল : খন্দকার গোলাম মাওলা
-
প্রতিষ্ঠার তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২
-
কার্যকরী সদর দপ্তর : ৩৭/১ (৬ষ্ঠ তলা, ফারজানা টাওয়ার), নর্থব্রুক হল রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০